
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানার বাহার কাচনা রামগোবিন্দ বালাটারী এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে স্থানীয় একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। পরে গণপিটুনি ও গণবিচারের আশঙ্কায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডিবি, থানা পুলিশ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাহার কাচনা রামগোবিন্দ বালাটারী এলাকার মো. আবুল হোসেন বেপারীর ছেলে মো. ইমারত হোসেন ওরফে এমারত (৫১) প্রতিবেশী মো. লাবলু লাবুর ৯ বছরের মেয়েকে ফুসলিয়ে স্থানীয় শ্মশানের পাশে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে অভিযুক্তের স্ত্রী শিশুটিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। বাড়িতে ফেরার পর শিশুটির মা তার প্যান্ট ভেজা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে জানতে চাইলে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ইমারত হোসেনকে আটক করে রামগোবিন্দ বালাটারী এলাকার নুরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এদিকে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে হারাগাছ থানার এসআই মো. রুহুল আমিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে বাধা দেয় এবং ঘটনাস্থলে গণবিচারের দাবি ওঠে। এতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ), কোতোয়ালী থানার ওসি এবং আরপিএমপি পুলিশ লাইন্সের স্ট্রাইকিং ফোর্সের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
পুলিশের সমন্বিত অভিযানে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে এনে নুরুজ্জামানের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ইমারত হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ অশোক চৌহান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।