
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুলের দায়িত্ব পালন, বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ লিজ দেওয়ার বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এসব অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রধান শিক্ষিকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি বাবদ উত্তোলন করা প্রায় ৩ লাখ টাকা কীভাবে ব্যয় ও বণ্টন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। এ অর্থের একটি অংশ শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ এবং বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ ছাড়া উচ্চতর স্কেল প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও স্থানীয়দের কেউ কেউ। বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং লিজসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় জিডি করেছেন প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুল। জানা গেছে, জিডিতে কাউনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, গ্রিন টিভি, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও সকালের বাণীর উপজেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম; প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক দেশের কণ্ঠ ও মুভি বাংলা টেলিভিশনের প্রতিনিধি মঞ্জুরুল আহসান শামীম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার প্রতিবেদক মনোয়ার হোসেন সুজন এবং জনবাণী মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধি আসলাম খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জিডিটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বুলবুল বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলব না। আপনারা যা পারেন লেখেন।” বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার দিল আফরোজের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে অন্য শিক্ষকদের কোনো অভিযোগ নেই।” বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ে পুকুর এবং জমি আছে কি না, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
” তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকার করা জিডির বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন বলে জানান। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, উচ্চতর স্কেল এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়া জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা জিডির বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।