
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাহমিনা খাতুন (২৫) নামে এক বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মহেষা দরগারপাড় এলাকায় আতোয়ার রহমানের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত তাহমিনা খাতুন রংপুর মহানগরীর হারাগাছ পৌরসভার ফাতাংটারী গ্রামের মোরসেলিমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তাহমিনা পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে তাঁর বাবা মোরসেলিম হারাগাছ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন মীরবাগ মহেষা দরগারপাড় এলাকার আতোয়ার রহমানের পুকুরে এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তাহমিনা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। নিহতের ভাই আলমগীর হোসেন জানান, তাঁর বোন জন্মগতভাবে কথা বলতে পারতেন না। তিনি বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং শারীরিকভাবেও দুর্বল ছিলেন। মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্যের বাড়ি ও বাজারে চলে যেতেন। এ কারণে তাঁকে বাড়িতে আটকে রাখা হতো। গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আলমগীর হোসেন আরও জানান, রোববার সকালে বোনের খোঁজে মীরবাগ এলাকায় গিয়ে তিনি পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বোনের মরদেহ শনাক্ত করেন। তাঁর ধারণা, বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘুরতে ঘুরতে বোনটি ওই এলাকায় চলে এসেছিলেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় কোনোভাবে পুকুরে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল জানান, নিহত যুবতী রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার পরিচয়পত্র রয়েছে। নিখোঁজের তিন দিন পর রোববার সকালে স্থানীয় একটি পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, উদ্ধারের সময় নিহতের পরনে ফুলহাতা জামা ও লাল চোষ পায়জামা ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।