
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৫) অপহরের পর অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ভুয়া স্ত্রীর পরিচয়ে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় যুবক উৎসব চন্দ্র বর্মনকে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার যুবকের আত্মীয়ের বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত স্কুলছাত্রীকে। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) অভিযুক্ত আসামী উৎসব চন্দ্র বর্মনকে অপহরন ও ধর্ষণ আইনের ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রংপুর আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় বিচারক। পরে তাকে রংপুর কারাগারে পাঠায় কোর্ট পুলিশ। এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার গোবরাপাড়া এলাকায় এক বসতবাড়ী থেকে অভিযুক্ত আসামী উৎসব চন্দ্র বর্মনকে আটক ও অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার উৎসব চন্দ্র বর্মন কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর বাহাগিলি গ্রামের সুশিল চন্দ্র বর্মনের ছেলে। মামলার বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অপহৃত মেয়েটি উপজেলার একটি স্কুলের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। স্কুল যাওয়া আসার পথে প্রায় মেয়েটিকে উত্যক্ত করার পাশাপাশি প্রেমের প্রস্তাবসহ বিবাহের প্রলোভন দিতো উৎসব চন্দ্র বর্মন। মেয়েটি স্বজনদের বিষয়টি জানায়। স্বজনরা বাধা নিষেধ করলে মেয়েটিকে উত্যক্ত করতো উৎসব। ১২ অক্টোবর সোমবার সকালে মেয়েটি স্কুলে যায়। কিন্তু বিকেলেও মেয়েটি বাড়ী ফিরে আসে না। অনেক খোঁজাখুজির পরও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন রাতেই কাউনিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন মেয়েটির পিতা। এক পর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন অজ্ঞাত বন্ধুদের সহযোগিতায় উৎসব চন্দ্র বর্মন স্কুল যাওয়া পথে মেয়েটিকে অপহরন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরনকারী উৎসব চন্দ্র বর্মনের অবস্থান সানক্ত করে পুলিশ। পরে শনিবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে মেয়েটির স্বজনদের সহায়তায় পুলিমের টিম অভিযান চালিয়ে পীরগাছার গোবরাপাড়া এলাকায় প্রশান্ত কুমার রায়ের বাড়ী থেকে উৎসব চন্দ্র বর্মনকে আটক করে। এ সময় ওই বাড়ী থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রশান্ত কুমার রায় আটক উৎসব চন্দ্র বর্মনের মাসিতো বোন জামাই। মামলার আরো বলা হয়েছে মেয়েটির উদ্ধার পর স্বজনদের জানায়, ঘটনারদিন সকালে অজ্ঞাতনামা আরো দুইজনের সহায়তারয় উৎসব চন্দ্র বর্মন তাকে বিবাহের প্রলোভন দিয়ে ফুসলিয়ে অপহরন করে অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেলে করে রংপুরে নিয়ে যায়। পরে সিএনজিতে করে লালমনিরহাটের তুসভান্ডার এলাকায় উৎসবের তার আত্মীয় বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখায় উৎসব । আত্মীয়ের জানায় তার স্ত্রীর পরিচয় জানিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে উৎসব। পরে সেখান থেকে মঙ্গলবার মেয়েটিকে গোপনে পীরগাছা এলাকায় উৎসব তার মাসিত বোন জামাইয়ের বাড়ীতে নিয়ে আসে। সেখানেও মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আত্মীয়দের ভুয়া স্ত্রীর পরিচয় জানিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে উৎসব। তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবকের স্বজনদের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হয়। তাদের দাবী, এটি প্রেমঘটিত, ছেলে মেয়ে উভয়ে প্রেম করে বিয়ের উদেশ্যে পালিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু ছেলে বিয়ের বয়স হলেও এখনো মেয়েটি বিয়ের বয়স হয়নি।
কাউনিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল বলেন, এ ব্যাপারে শনিবার দিনগত রাতে মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে ধর্ষণ, অপহরন ও সহায়তার ধারায় উৎসব চন্দ্র বর্মনকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত আরো তিনজনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। শারীরিক পরীক্ষার জন্য উদ্ধার মেয়েটিকে ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা শেষে আদালতে মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। ওসি আরো জানান, অভিযুক্ত প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে রবিবার রংপুর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আসামী উৎসব চন্দ্র বর্মনকে রংপুর কারাগারে পাঠায় আদালতের বিচারক।