
বরেন্দ্রকণ্ঠ ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের প্রভাবে চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ বছর দেশটির চিপ শিল্পের মোট আয় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি।
তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট উ চি-ই এ তথ্য জানিয়েছেন। তাইপেতে অনুষ্ঠিত সেমিকনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে নতুন এক যুগে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান চিপ উৎপাদন কেন্দ্র তাইওয়ান। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টরের বড় অংশ উৎপাদিত হয় দেশটিতে। উন্নত প্রযুক্তির চিপ উৎপাদনেও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য রয়েছে।
এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চিপের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এআইভিত্তিক চ্যাটবট, ছবি তৈরির সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিশ্বজুড়ে সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে তাইওয়ানের চিপ নির্মাতারা।
দেশটির সবচেয়ে বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসিসহ বিভিন্ন কোম্পানির আয় ইতোমধ্যে এই বাড়তি চাহিদার প্রতিফলন দেখিয়েছে। এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে।
তবে এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন উ চি-ই। তার মতে, চিপ শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, কোনো একটি দেশের পক্ষে পুরো বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয়। শিল্পটির ধারাবাহিক অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে চিপ ডিজাইন ও উৎপাদন সরবরাহব্যবস্থার বৈশ্বিক সংগঠন সেমির প্রধান অজিত মানোচা এআইকে চলতি দশকের প্রধান প্রযুক্তিগত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার মতে, এআই শিল্প এখনো বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এ খাতে নতুন সুযোগের পাশাপাশি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও আসবে।
মানোচা বলেন, এআইভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অগ্রগতি সবসময় একই গতিতে চলবে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতি, নতুন সুযোগ ও সম্ভাব্য প্রতিকূলতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই ভবিষ্যতে শিল্পটির সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হবে।
এআই প্রযুক্তির বিস্তার অব্যাহত থাকলে তাইওয়ানের চিপ শিল্পে প্রবৃদ্ধির এই ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মূল্যায়ন নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হয়ে থাকছে।