
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে পদার্পণ করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৫—২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার সকাল ১০টায় নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। সেখানে পায়রা অবমুক্তি, বেলুন উড়ানো ও উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন অতিথিরা। পরবতীর্তে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নবাগত শিক্ষার্থীদের হাতে নওগাঁর ঐতিহ্য আম গাছের চারা তুলে দিয়ে তাঁদেরকে বরণ করে নেবে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং ব্র্যাক ব্যাংক স্টাডি সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে কেক কেটে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ—আল—মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এছাড়া জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনের সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫—২৬ শিক্ষাবর্ষে দুটি বিভাগে (আইন ও হিসাব বিজ্ঞান) শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অভিযাত্রা শুরু হয়। গত ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্দ হিসাব বিজ্ঞান ও আইন বিভাগের দুটি অনুষদে ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি বিভাগে ৪০ জন করে প্রথম বছরে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
নওগাঁ বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শুভযাত্রা হোক জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত, সাফল্যে সমৃদ্ধ এবং আগামী প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। নবাগত সকল শিক্ষার্থীদের বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা হোক আলোকময়, সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল।’
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সভায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া বিভাগ দুটি হলো আইন অনুষদের অধীন আইন বিভাগ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ। এ দুই বিভাগ খোলার মধ্য দিয়ে নওগাঁবাসীর বহুল প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৫—২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের শনিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
মহাপরিকল্পনায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়:
ইতোমধ্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নির্বাচন ও জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নির্বাচিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, রাস্তা ও চত্বরসহ বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে এক মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্লান) তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৮ মে নওগাঁ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও একাডেমিক মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরা হয়। সভায় উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার সার্বিক ধারণা উপস্থাপন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেড।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ৫০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে রেখে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের ধারণাপত্র প্রস্তুত করেছে শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেড। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক ধারণাপত্র তুলে ধরেন শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেডের স্থপতি মুস্তাসিম মাহমুদ খান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকার ৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। ওই জমিতে আগামী ৫০ বছরের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় ছয়তলা বিশিষ্ট পাঁচটি একাডেমিক ভবন, পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, ছেলে ও মেয়েদের জন্য তিনটি করে মোট ছয়টি ছয়তলা ছাত্রাবাস, একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ মোট ৪৫টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত জায়গার ৫৩ শতাংশই সবুজ অঞ্চল, মাঠ কিংবা উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হবে। যেহেতু জায়গাটি কিছুটা নিম্নাঞ্চল, তাই বন্যা বা জলাবদ্ধতা এড়াতে এবং আশপাশের মাঠের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রশস্ত খাল রাখার পরিকল্পনাও মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।