
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে শুরু থেকেই অর্থের পেছনে না ছুটে দক্ষতা, সততা ও পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাটের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ ও আদর্শ আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা কঠোর ও স্বচ্ছ করার অন্যতম লক্ষ্য হলো যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ পেয়েছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের কারণেই এ অবস্থানে এসেছেন।
এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। প্রথমদিকে কাজ ও আয় কম হতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সুযোগ এবং পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই ক্যারিয়ারের শুরুতেই অর্থ উপার্জনকে একমাত্র লক্ষ্য না করে নিজেকে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।
আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখে আইন পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও তাদের সামাজিক দায়িত্ব।
তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, একজন আইনজীবীর সাফল্যকে শুধু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাও এই পেশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় শেখার কোনো শেষ নেই। যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।
দেশে আইনজীবীর সংখ্যা অনেক হলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার কারণে এ পেশার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।
পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।