
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজঃ
কলেরার উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা থেকে দ্রুত জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি রোগ। তবে এর নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকার ওপর নির্ভর করলে হবে না। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং রোগের কার্যকর নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় ঝুঁকি বিবেচনা করে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জনসংখ্যার ঘনত্ব, রোগের প্রকোপ, আগের টিকাদানের তথ্য, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সরকার এখন আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় কলেরা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে হবে।
এক বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ছাড়া অন্যদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান চলবে। সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে।