
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে ঘটেছে ভয়াবহ বোমা হামলা। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২১ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে ইসলামাবাদের ব্যস্ত আদালত ভবন (কাচেহরি) সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ, যেখানে আদালতের আইনজীবী, মামলার পক্ষের লোকজন ও সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আশপাশের ভবন কেঁপে ওঠে। মুহূর্তেই চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই আদালত ভবন খালি করে দেওয়া হয় এবং দিনের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ইসলামাবাদ পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, প্রধান কমিশনার এবং ফরেনসিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
আহতদের উদ্ধার করে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে রাজধানীর সব হাসপাতালেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যসহ সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা আবারও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আফগান সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল ও প্রধান শহরগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো। ইসলামাবাদের এই হামলা সেই অস্থিরতার নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত তা উদঘাটনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।