
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরান-কে “পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে”। তার এমন বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও উন্নত ও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে এসব শক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এখানে কোনো সংঘাত দেখা দিলে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
সোমবার (৪ মে) “প্রোজেক্ট ফ্রিডম” নামে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌ-সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করা হয়েছে।
তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই এলাকায় ৮৭টি দেশের জাহাজ আটকা পড়ে আছে এবং তারা কার্যত এই সংঘাতের ‘নিরপরাধ দর্শক’।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের মার্কিন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এছাড়া একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পৃথকভাবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স জানিয়েছে, ওই এলাকায় আরও দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা এখনও রয়েছে—এমন বার্তা দিতে চাইছে ইরান। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।