
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন সচিব মোহসেন রেজায়ি, রাজনৈতিক উপদেষ্টা জোলঘাদর
ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে সাবেক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান মোহসেন রেজায়িকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি রেজায়িকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ফলে দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রেজায়ির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রেজায়ির নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোকে তাই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসি নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে
মোহসেন রেজায়ি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তিনি একসময় আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেন।
সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বর্তমানে তিনি এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশটির পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে তা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল। ফলে রেজায়ির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জোলঘাদরের জায়গায় রেজায়ি
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব পদে রেজায়ি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর জোলঘাদরকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে অল্প সময়ের মধ্যেই কাউন্সিলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হলো। নতুন দায়িত্বে রেজায়ি একই সঙ্গে কাউন্সিলে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এতে নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে তার সরাসরি সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হলো।
জোলঘাদরও থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়
নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব পদ হারালেও জোলঘাদরকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়নি। তাকে নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি।
ফলে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এই রদবদলে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। রেজায়ি সামলাবেন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আর জোলঘাদর সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন।
বিশ্লেষকদের নজর এখন রেজায়ির নেতৃত্বে ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকে।