
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ওই দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ এবং ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিকসের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের নেতাদের সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ হওয়ায় সেই সূত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৪ জুলাই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার ভারতীয় দূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর তিনি জানান, আমন্ত্রণটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, সফরটি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারে।
ভারতের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ বাংলাদেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে দুই আমন্ত্রণের কোনটি বা দুটিই গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখন ঢাকার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।