
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের তিন দিন পর ধসে পড়া বাঁশের ঘরের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৮৪ বছর বয়সী পলিনা পোবিকে। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাকে খুঁজে পান। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পলিনা আগে থেকেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। ফলে ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়লেও তিনি নিজে বেরিয়ে আসতে কিংবা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরাও প্রথমদিকে ধারণা করেছিলেন, তাকে হয়তো উদ্ধার করে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে তারা ধসে পড়া বাড়ির কাছে ফিরে যান এবং সেখানেই তাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান।
কয়েক দিন খাবার ও পানি ছাড়া থাকার পরও বৃদ্ধার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে প্রায় ‘অলৌকিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
গত ১৫ আগস্ট ফ্লোরেসের কাছে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অগভীর গভীরতায় সংঘটিত এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ধস নামে, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কিছু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে।
ভূমিকম্পের পর হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে একের পর এক আফটারশক পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সামরিক বিমান ও জাহাজও কাজে লাগানো হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকতে পারেন—এই আশায় দুর্গম এলাকাগুলোতেও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। আর পলিনা পোবির বেঁচে থাকার ঘটনা সেই অনুসন্ধানে নতুন করে সাহস জোগাচ্ছে।