
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ধর্ষণ ও শিশু যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি কমাতে ওষুধের মাধ্যমে যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য সরকার।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির ফল ইতিবাচক হলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারগুলোতে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এটি আরও বিস্তৃত আকারে চালু করা হতে পারে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ গুরুতর যৌন অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিবর্তে স্বেচ্ছায় চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তি যৌন অপরাধের সাজা ভোগ করছেন। এদের একটি অংশকে যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার আওতায় আনার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে সমস্যাজনক যৌন আকাঙ্ক্ষা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে কারাগারে একটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে আরও কারাগার ও স্বাস্থ্যসেবা অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সারট্রালিনের মতো ওষুধ অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন চিন্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন জাতীয় ওষুধ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে।
এ ধরনের চিকিৎসা বিশেষ করে তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে, যারা অস্বাভাবিক যৌন চিন্তা ও তাড়না নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় ভুগছেন এবং যাদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অধ্যাপক বেলিন্ডা ওয়াইন্ডারের মতে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির প্রাথমিক ফল আশাব্যঞ্জক হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি আরও বড় পরিসরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
তার মতে, কারাগার থেকে মুক্তির পর যৌন অপরাধে পুনরায় জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং এবং পর্যাপ্ত তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীরও প্রয়োজন রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো গুরুতর যৌন অপরাধে দণ্ডিতদের যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন এবং মুক্তির পর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো। তবে চিকিৎসা স্বেচ্ছায় হবে নাকি কোনো ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়।