
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (MJDA) যোগ দিতে চাইলে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে নতুন কোনো দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন হবে বলে স্পষ্ট করেছে ইসলামাবাদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি বিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো। অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে যেসব দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদের জন্য ভবিষ্যতে এ কাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার আগ্রহ জানালে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে তা বিবেচনা করা হবে।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটিও জানানো হয়েছে যে, চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশও এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে আরব নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের অবস্থানও অবশ্য সতর্ক। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তখন জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে কোনো প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থও জড়িত থাকবে।