
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে অভিষেক কুমার (২০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিষেক বিহারের সীতামারি এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুর্গাপুরের কাঁকসার রাজবাঁধে অবস্থিত মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন এবং সেখানকার হোস্টেলেই থাকতেন।
হোস্টেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, অভিষেক একই কক্ষে এক সহপাঠীর সঙ্গে থাকতেন। ঘটনার সময় তার রুমমেট নমাজ পড়তে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান তিনি। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি কলেজ ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানান।
পরে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে অভিষেককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো চিরকুট পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে অভিষেকের পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানানো হয়েছে। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হোস্টেলের কক্ষ তল্লাশির পাশাপাশি তার সহপাঠীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কলেজের সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য জানান, অভিষেক ও তার এক সহপাঠী একই কক্ষে থাকতেন। ঘটনার সময় সহপাঠী নমাজ পড়তে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।
তিনি বলেন, সামনে পরীক্ষা থাকায় অভিষেক কোনো ধরনের মানসিক চাপে ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মেডিকেল কলেজ ও হোস্টেলজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।