
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ধর্মের পরিচয় আলাদা হলেও মানবিকতার জায়গায় কোনো বিভেদ নেই—মিসরের এক খ্রিষ্টান নাগরিকের কর্মকাণ্ডে যেন আবারও তারই প্রমাণ মিলল। মুসলিম প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের ওমরাহ পালনের স্বপ্ন পূরণ করতে ইসলামিক কোরআনভিত্তিক এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন মিনা। তবে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ওমরাহর সুযোগ নিজের জন্য না রেখে তিনি তা তুলে দিয়েছেন প্রতিবেশী উম আলির হাতে।
ঘটনার সূত্রপাত ইসলামিক ধর্মপ্রচারক ড. আয়মান আবু ওমরের একটি লাইভ সম্প্রচার থেকে। সেটি দেখার সময় মিনা জানতে পারেন, তার দীর্ঘদিনের পরিচিত মুসলিম প্রতিবেশী উম আলি—যিনি মোনা নামেও পরিচিত—কোরআনবিষয়ক প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিযোগিতার বিজয়ীর জন্য ছিল সম্পূর্ণ খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ। উম আলির বহুদিনের ইচ্ছার কথা আগে থেকেই জানতেন মিনা। তাই পুরস্কারটি প্রতিবেশীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি নিজে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মিনা বলেন, তিনি খ্রিষ্টান হলেও ইসলামিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কোনো দ্বিধা অনুভব করেননি। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল উম আলির জন্য ওমরাহ পালনের সুযোগটি অর্জন করা।
জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে প্রতিযোগিতায় একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকেন মিনা। তিনি ৫০ থেকে ৬০ বারেরও বেশি সঠিক উত্তর জমা দেন। শেষ পর্যন্ত তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয় এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন তিনি।
তবে বিজয়ের পর নিজের জন্য পুরস্কার গ্রহণ না করে আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন মিনা। ওমরাহ পালনের সুযোগটি তিনি তুলে দেন তার মুসলিম প্রতিবেশী উম আলির হাতে।
উম আলির কাছে পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। শারীরিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে সক্ষম থাকা অবস্থাতেই তিনি এই ইবাদত পালনের সুযোগ চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণের খবর যখন মিনার কাছ থেকে শুনলেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
নিজ বাড়িতে বসেই আনন্দে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় উম আলিকে। আর প্রতিবেশীর এমন আনন্দ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে মিনা উপলব্ধি করেন, তার এই ছোট্ট উদ্যোগটি উম আলির কাছে কতটা বড় প্রাপ্তি।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতার মধ্যেও প্রতিবেশীর স্বপ্ন পূরণে মিনার এই উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।