
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে এবার বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। তিন দেশ যৌথভাবে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই তিন দেশের এই পদক্ষেপকে তেল আবিবের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবিক দুর্ভোগের বিষয়ে শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে বসে থাকার সময় শেষ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন সরাসরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে নিয়ে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে এই সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও ইসরায়েল এর বিরোধিতা করে আসছে।
তিন দেশের সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্ব আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। লন্ডনের পক্ষ থেকে পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই দেশের বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য হয়। বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্য আলাদাভাবে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়েও এখনো বিস্তারিত স্পষ্টতা নেই। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে এমন পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্য ও ওয়াইন উল্লেখযোগ্য।
এদিকে পশ্চিম তীরের জেরুজালেমসংলগ্ন ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, এই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত ভূখণ্ডের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়বে।
এর মধ্যেই ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে আরও প্রায় এক হাজার নতুন বসতবাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে।