
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের বিহারে পুলিশ, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কর্মকর্তা পরিচয়ে ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রোহিত তিওয়ারি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক যাত্রীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
২৫ বছর বয়সী রোহিত বিহারের ভোজপুর জেলার বারিসওয়ান গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, তিনি যাত্রীবাহী ট্রেনের প্রতিবন্ধীবান্ধব কামরায় উঠে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এরপর ধূমপান কিংবা টিকিট-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ তুলে জরিমানার নামে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধরও করতেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
যেভাবে সামনে আসে ঘটনা
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২১ বছর বয়সী নিতিন কুমার নিখোঁজ হওয়ার পর। বৈশালী জেলার বাসিন্দা নিতিন হায়দরাবাদে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি ফেরার পথে তিনি ০৭০৯১ নম্বর হায়দরাবাদ-দানাপুর বিশেষ ট্রেনে ছিলেন।
২০ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে নিতিন জানান, সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে কয়েকজন নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়েছে। তখন তিনি বক্সার স্টেশনের কাছে অবস্থান করছেন বলেও জানান।
এরপর নিতিনের ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ১০ হাজার রুপি দাবি করা হয়। পরদিন সকালে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে পরিবার তার অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার রুপি পাঠায়। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর সকালে একই নম্বর থেকে আবার ২০ হাজার রুপি দাবি করা হয়। দিনভর একাধিকবার ফোন এলেও পরিবারের সদস্যরা নিতিনের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।
সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গ্রামের প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে বক্সার রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পরে দানাপুর রেলওয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) কাঞ্চন রাজের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্তে গ্রেপ্তার
প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে বক্সার ও বারাণসীর মধ্যবর্তী মোহনসরাই এলাকা থেকে রোহিত তিওয়ারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রোহিত অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরা ও জগজীবন হল্টের মধ্যবর্তী রেললাইনের পাশ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিতিনের বাবা মুকেশ রাই মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের অভিযোগ, নিতিনের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে রোহিত তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একই কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছিলেন তিনি।
আগেও একাধিক মামলার তথ্য
রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোহিতের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। শাহপুর থানায় চুরির মামলা, বক্সার রেলওয়ে থানায় একটি মামলা এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর দানাপুর রেলওয়ে থানায় দায়ের হওয়া আরেকটি মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে প্রায় ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন রোহিত। দুই মাস আগে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বাদামি রঙের মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, মানিব্যাগটি কৈলাশ কুমার নামে এক ব্যক্তির। এতে এটিএম কার্ড, প্যান কার্ড, প্রতিবন্ধী সনদ ও ভোটার পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে নিজের আধার কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
পাটনা সরকারি রেলওয়ে পুলিশের ডিএসপি কাঞ্চন রাজ বলেন, একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রেন থেকে এক যুবককে ধাক্কা দিয়ে হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা সে স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। আগের কয়েকটি মামলাতেও সে পলাতক ছিল।
ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।