
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তির একটি পুকুরের পার দখলের চেষ্টার অভিযোগ প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। অবশেষে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধাঁরমুখে অর্ধেক দখল করেই চলে গেছেন তারা। তবে পুকুর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত মতিউর রহমান। এ ব্যাপারে আক্কেলপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, গতকাল শনিবার আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন নওতা মৌজার পুকুর আরএস খতিয়ান নম্বর ৭৪ দাগ নম্বর ২৫২ এম আর খতিয়ান নম্বর ৮৮ দাগ নম্বর ১২৪ মোট দৈর্ঘ প্রস্ত মিলে ১ একর ৭ শতাংশ পুকুরটি দীর্ঘ চল্লিশ বছর থেকে সিএস,আর এস খতিয়ান মুলে মাছ চাষ করে আসছিল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার আব্দুর মজিদ। কিন্তু হঠাৎ করে প্রভাবশালী মতিউর রহমানের নজর পরে ঐ সম্পত্তির উপর। মতিউর রহমান লোকজন নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে পুকুরের পাড়ের উপর সারিবদ্ধভাবে বাঁশের খুটিপুতে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধারমুখে অর্ধেক দখল করেই চলে গেছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জামেদুল ইসলাম বলেন, প্রায় চল্লিশ বছর থেকে দেখছি এই পুকুরের মালিক আমজাদ হোসেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মজিদ হোসেন এই পুকুরটি চাষাবাদ করছে। হঠাৎ করে একজন এসে পুকুর দখল করছে। তা সত্যিই বেদনাদায়ক। আমিও চাই এই বিষয়টি সূষ্টু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।
মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুর মজিদ বলেন,আমরা এই পুকুরটি দীর্ঘদিন থেকে পৈত্রিক সূত্রে ওয়ারিশী মূল্যে ভোগদখল করে আসছি। তারপরেও প্রভাবশালী মতিউর রহমানসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক দখলেল জন্য প্রথমে পুকুরে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করে আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমি এই বিষয়টির সুষ্টু তদন্তপূর্বক বিচার প্রার্থনা করছি।
অভিযুক্ত মতিউর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। এই পুকুরের সম্পত্তিটি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। এই কারণে আমি পুকুরটি দখলে নিয়েছি। পুকুর সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন রেজা বলেন, উপজেলার রায়কালী বাজার সংলগ্ন একটি পুকুরে দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।