
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় জান্নাতুল মাওয়া (৭) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এদিকে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে স্কুল ছুটির পর ছোট কুমিরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত জান্নাতুল মাওয়া ৫২নং মছজিদ্দা (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে কাজীপাড়া এলাকার তসলিম উদ্দিনের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল জান্নাতুল। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির ৮ নম্বর একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে সেটি আটক করেন। তবে সুযোগ বুঝে চালক পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, চমেক হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়রাও আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোট কুমিরা অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। স্কুল, বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি কিংবা নিরাপদ পারাপারের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে মহাসড়ক পার হতে হয়।
তাদের দাবি, অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে স্কুল ছুটির সময় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন, গতিনিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ অথবা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পলাতক বাসচালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।