
ডেস্ক রিপোর্টঃ
এইচএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের সামনে খুলে যায় জীবনের নতুন অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও নিজের পছন্দ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপও তৈরি হয়। প্রতিযোগিতামূলক এই সময়ে দীর্ঘ সময় পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোরের শেষ পর্যায়ে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশের বিকাশ চলতে থাকে। ফলে এ সময়ে আবেগের ওঠানামা, উদ্বেগ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। পরিবারের প্রত্যাশা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে কিছু কার্যকর অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে এই সময়ের প্রস্তুতি আরও গোছানো ও কার্যকর করা সম্ভব।
১. নিয়মিত পড়ুন, অতিরিক্ত চাপ নেবেন না
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কয়েক দিনের বিষয় নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় পড়ার চেষ্টা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার বদলে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী একটি টেকসই পরিকল্পনা করা ভালো।
পড়াশোনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরচর্চা এবং পরিবার-বন্ধুদের জন্য কিছুটা সময় রাখাও প্রয়োজন। এতে মানসিক ক্লান্তি কমে এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
২. রুটিন করুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন মুঠোফোন
এলোমেলোভাবে দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী পড়াশোনা বেশি কার্যকর হতে পারে। দিনের পড়া কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া, মাঝখানে বিরতি রাখা এবং নিয়মিত আগের পড়া ঝালিয়ে নেওয়া জরুরি।
প্রতি সপ্তাহে নিজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেও কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বোঝা সহজ হয়।
তবে পড়াশোনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে মুঠোফোন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছোট ভিডিও ও অনলাইন গেম সহজেই দীর্ঘ সময় কেড়ে নেয়। তাই পড়ার সময় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং বিনোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা উপকারী।
৩. অন্যের প্রস্তুতি দিয়ে নিজের বিচার নয়
কেউ দিনে কত ঘণ্টা পড়ছে, কতটি কোচিং করছে কিংবা মডেল টেস্টে কত নম্বর পাচ্ছে—এসবের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতির তুলনা করা উচিত নয়। কারণ প্রত্যেকের শেখার গতি, দক্ষতা ও দুর্বলতা আলাদা।
নিজের গতকালের অবস্থার সঙ্গে আজকের অবস্থার তুলনা করাই বরং বেশি কার্যকর। কোনো দিন মনোযোগ কমে গেলে বা প্রত্যাশামতো পড়া না হলে নিজেকে ব্যর্থ ভাবারও কারণ নেই।
প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম, হাঁটাহাঁটি, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম কিংবা পর্যাপ্ত ঘুম নিয়ে আবার পড়ায় ফিরতে পারেন।
৪. সমস্যায় পড়লে সহযোগিতা নিন
ভর্তি প্রস্তুতির সময় কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে বা মানসিক চাপ সামলাতে কঠিন মনে হলে একা সবকিছু মোকাবিলা করার প্রয়োজন নেই।
শিক্ষক, পরিবার, বড় ভাই-বোন কিংবা প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। সময়মতো সহযোগিতা চাওয়া দুর্বলতা নয়; বরং নিজের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
৫. সাফল্যের সংজ্ঞা নিজের মতো ঠিক করুন
ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা বিষয়েই জীবনের সাফল্য নির্ভর করে না।
কোন বিষয় পড়তে আগ্রহ লাগে, কোন কাজ করতে গিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়, ভবিষ্যতে কী ধরনের পেশায় যেতে চান—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
অন্যের পছন্দ বা সমাজের প্রচলিত ধারণাকে নিজের একমাত্র নির্দেশনা না বানিয়ে নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, কিন্তু এটিই জীবনের শেষ সুযোগ নয়। এই সময়টায় ধারাবাহিক প্রস্তুতি, নিজের প্রতি আস্থা, সুস্থ জীবনযাপন এবং বাস্তবসম্মত লক্ষ্যই একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করতে পারে।