
লাইফস্টাইল ডেস্ক
সুস্থ থাকার জন্য সবসময় কঠিন ডায়েট, ব্যায়ামের রুটিন কিংবা দ্রুত ফল পাওয়ার কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কয়েকটি সহজ ও টেকসই অভ্যাস যুক্ত করলেই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন ভালো রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ভালো অভ্যাস ধরে রাখা। প্রতিদিনের জীবনে নিচের পাঁচটি অভ্যাস যুক্ত করা যেতে পারে।
১. নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন
ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখা জরুরি। হাঁটার সময় চারপাশের প্রকৃতি, গাছপালা বা পাখির দিকে মনোযোগ দেওয়া মনকে প্রশান্ত করতে পারে। একইভাবে কয়েক মিনিট ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
খাওয়ার সময়ও মনোযোগী থাকা দরকার। ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া এবং খাবারের স্বাদ উপভোগ করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
২. পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন
শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও uninterrupted ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাস করা ভালো। নিয়মিত শরীরচর্চা, বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি কমানো এবং ঘুমানোর আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলাও উপকারী। শোয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন পর্দার ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক খাবার বাড়ান
সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, মটরশুঁটি, ছোলা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার রাখা ভালো। এসব খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণ, চিনি ও বিভিন্ন সংযোজিত উপাদান বেশি থাকতে পারে। তাই যতটা সম্ভব তাজা ও স্বাভাবিক খাবারকে খাদ্যতালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।
৪. বসে থাকার সময় কমিয়ে শরীর সচল রাখুন
দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য উপকারী নয়। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার কিংবা অন্য কোনোভাবে শরীরকে সচল রাখার চেষ্টা করা উচিত।
প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করার পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট হাঁটাচলা করাও উপকারী। ফোনে কথা বলার সময় বসে না থেকে হাঁটা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে সময় কাটানোর মতো অভ্যাসও শরীরকে সক্রিয় রাখতে পারে।
বয়স বা শারীরিক সমস্যার কারণে যাদের চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক কার্যক্রম বেছে নিতে পারেন।
৫. ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমান
বায়ুদূষণ, ধোঁয়া, অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ও কিছু রাসায়নিক উপাদান আধুনিক জীবনে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন। তবে এসবের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমানো জরুরি।
বায়ুদূষণ ও আগুনের ধোঁয়া থেকে তৈরি সূক্ষ্ম কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রান্নার সময়ও গ্যাসের চুলা থেকে ক্ষতিকর গ্যাস ও অতিক্ষুদ্র কণা তৈরি হতে পারে। তাই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
পানি পরিশোধনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া, প্লাস্টিকের বদলে কাচের পাত্র ব্যবহার এবং পানির জন্য স্টিলের বোতল ব্যবহারের মতো কিছু পদক্ষেপ ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমাতে পারে। বাইরে দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে ঘরের বাতাসও পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ছোট অভ্যাসেই বড় সুফল
সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কঠোর নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। মানসিক প্রশান্তি, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ক্ষতিকর উপাদান থেকে দূরে থাকার মতো সহজ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই দ্রুত ফলের আশায় নানা পদ্ধতির পেছনে না ছুটে প্রতিদিনের জীবনে টেকসই ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ উপায়।