
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট নিয়ে নিজেদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। তিনি জানান, সার্বিকভাবে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। ইইউ পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইভারস আইজাবস জানান, নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে গণসংযোগ ও প্রচার চালাতে পেরেছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত। পাশাপাশি ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার সংস্কৃতির প্রশংসা করেন তিনি। তবে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এমন ইতিবাচক চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান।
ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু উদ্বেগের বিষয়ও তুলে ধরে ইইউ। বিশেষ করে নির্বাচনে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য ও আচরণের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান তিনি। এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকাও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন আইজাবস।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী প্রার্থীদের চরিত্রহনন, যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য এবং পুরুষতান্ত্রিক ডিজিটাল হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর।
তবে সামগ্রিক মূল্যায়নে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইইউ প্রতিনিধি দল। নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতি এবং ভোটদানের পরিবেশও সন্তোষজনক ছিল বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইইউ প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং নারী অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।