
বরেন্দ্রকণ্ঠ ডেস্কঃ
১৮ মাসের দায়িত্ব শেষে বিদায়ের ঘোষণা, নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের ১৮ মাস পর এবার তাঁর বিদায়ের সময় এসেছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে যে দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন, তা ছিল রাষ্ট্রকে সচল করা—এবং সেটিই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ।
সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন,
“১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা। আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি। আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা—এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ।”
‘৫ আগস্ট ছিল মহা মুক্তির দিন’
বিদায়ের দিনে তিনি ৫ আগস্টের ঘটনাবহুল সময়ের কথা স্মরণ করেন। তাঁর ভাষায়, দিনটি ছিল দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুক্তির মুহূর্ত।
তিনি বলেন,
“কি মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি। বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিলো। তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে দৈত্যের গ্রাস থেকে বের করে এনেছিলো। দেশ মুক্ত হয়েছিল, কিন্তু পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল অচল।”
বিদেশে থাকা অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। তখন তিনি বিদেশে ছিলেন এবং প্রথমে রাজি হননি।
“আমি দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলাম না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্যের কথা বলে আমাকে রাজি করায়,”—বলেন তিনি।
প্রশাসনে আস্থাহীনতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ
রাষ্ট্র পরিচালনার শুরুতে প্রশাসনিক শূন্যতা ও আস্থাহীনতা ছিল বড় সংকট বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্রযন্ত্র চালিয়েছিল তাদের অনেকেই পালিয়ে যায়, কেউ আত্মগোপনে যায়, আবার কেউ নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে। ফলে কাকে বিশ্বাস করা যাবে—তা নির্ধারণ করাই হয়ে দাঁড়ায় বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন ও গণভোটকে ঐতিহাসিক আখ্যা
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
“দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল—একটি ঈদের আমেজের মতো—যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে,” বলেন তিনি।
বিজয়ী-পরাজিত সবাইকে অভিনন্দন
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো প্রতিযোগিতা ও মতের বৈচিত্র্য।
“যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আর যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও প্রায় অর্ধেক ভোট পেয়েছেন। এটি প্রমাণ করে জনগণের আস্থা বিভক্ত নয়, বরং বহুমাত্রিক।”
দায়িত্বের সমাপ্তি, নতুন অধ্যায়ের সূচনা
তিনি জানান, নতুন সরকার শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের পথে আরও এগিয়ে যাবে।