
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
পানিস্বল্পতা ও প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। আগামী ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা। হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিকাশের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
সোমবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ‘কাপ্তাই হ্রদ হতে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত সভা’য় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের মাছ শিকার, পরিবহন ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ থাকবে।
সভায় মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক হায়দার, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক ফয়েজ আল করিম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী নৌ পুলিশ সুপার আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম, রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেলে ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মূলত, কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক পজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়।
হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞাকালীন মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৬ হাজার জেলেকে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘আগামী ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ২৫ এপ্রিল বিকাল ৪টার পরে যেকোনো প্রকার মৎস্য পরিবহন ও বাজারজাতসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’