
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজঃ
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ডিবি হেফাজতে থাকার সময়কার একটি দুঃসহ রাতের স্মৃতি তুলে ধরেছেন তার মেয়ে শামারুহ মির্জা। এক পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ডিবি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় পাশের কক্ষ থেকে একজনের চিৎকার ও মারধরের শব্দ শুনেছিলেন তার বাবা। সেই ঘটনায় সারারাত ঘুমাতে পারেননি মির্জা ফখরুল।
শামারুহের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের আগে কোনো এক সময়ে মির্জা ফখরুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কর্মকর্তাদের একটি কক্ষে তাকে রাখা হয়। আশপাশের কয়েকটি কক্ষ থেকে সে সময় মারধরের শব্দ ভেসে আসছিল বলে জানান তিনি।
শামারুহ বলেন, পাশের কক্ষ থেকে একজনের আর্তচিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন তার বাবা। ওই ব্যক্তি বারবার ‘মা’ ও ‘পানি’ চেয়ে চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ সেই চিৎকার থেমে যায়।
চিৎকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তির কী হয়েছিল, তা মির্জা ফখরুল আর জানতে পারেননি বলে জানান শামারুহ। তবে ঘটনাটি তার বাবাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ওই রাতের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারেননি।
শামারুহের বক্তব্য অনুযায়ী, কারাগার ও হেফাজতে থাকা নেতাকর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা শুনে তার বাবা মানসিকভাবে কষ্ট পেতেন। বিশেষ করে তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।
তিনি জানান, কারাগার থেকে ফিরে মির্জা ফখরুল তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকের জীবনে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রভাবের কথা বলেছিলেন। কারও স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন ব্যাহত হয়েছে, কেউ দীর্ঘ সময় কারাগারে থেকেছেন, আবার কেউ আত্মগোপনে বা নিখোঁজ অবস্থায় ছিলেন—এমন অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
শামারুহের বর্ণনায়, ডিবি হেফাজতের সেই রাত শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছিল না; বরং তা মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে গভীর মানসিক ছাপ ফেলেছিল। দীর্ঘদিন পর মেয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সময়ের একটি অজানা স্মৃতি আবারও সামনে এলো।