
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন সরকারি ভবনগুলোর ছাদে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি সভায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সরকারি কার্যালয় নয়, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অফিসগুলোকেও ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।
সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ও হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। অন্যদিকে হাইব্রিড ব্যবস্থা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সন্ধ্যার পরও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল ও গ্রামীণ শক্তির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, গত ১৭ আগস্টের সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ দুটি কমিটি গঠন করে। কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি ভবনগুলোর মধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী ছাদ চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে এসব ছাদের আয়তন, সম্ভাব্য ব্যয় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যাগুলোও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সরকারি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে সরকারি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উদাহরণ তৈরি হবে।