
ডেস্ক রিপোর্ট:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে। শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৪০) আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তাঁরা হলেন. উপজেলার উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গ-গোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া ওই দুর্ঘটনায় নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। মরদেহে দেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ২৫ আগস্ট সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে অগ্নিকা-ে নিহত ১৬ বাংলাদেশীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ বাংলাদেশির মরদেহ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজন আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। মরদেহ শাহজালাল বিমান বন্দরে গ্রহণ করার জন্য নিহতদের স্বজনদের জানানো হয়েছে। মরদেহগুলো শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতে পারে।’তিনি আরও জানান, অগ্নিকা-ে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত ও তাঁদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই সাতজনের মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই মরদেহগুলো দেশে ফিরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে মরদেহ দেশে ফেরার খবরে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে একদিকে যেমন প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষা, তেমনি নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ কবে আসবে তা অনিশ্চিত। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘শুনলাম, বৃহস্পতিবার নাকি নয়জনের লাশ আসবে। হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি। এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে হামার আবদার হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। হামার তো সব শেষ হয়ে গেছে। এখন শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মনটাকে আর স্থির রাখতে পারোছি না। ’রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কর্মসংস্থানের আশায় সৌদি আরবে যাওয়া এসব শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য গভীর অনিশ্চয়তা ও বেদনা তৈরি করেছে।