
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
দেশের ৬৪ জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্যে বণ্টন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে দুর্নীতি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-হুইপদের।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সময়ে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ থাকলেও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়মূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়েও তারা তদারকি করবেন।
এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সরকারি সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।
যেসব দায়িত্ব পেলেন যারা
প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন জেলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ পেয়েছেন রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব। মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে দেওয়া হয়েছে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার দায়িত্ব।
এ ছাড়া ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুর, নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী, সাচিং প্রু কক্সবাজার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকা, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি এবং হাবিবুর রশিদ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব পেয়েছেন।
বরিশাল বিভাগের বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আহম্মদ সোহেল মনজুরকে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনা পেয়েছেন ফারজানা শারমিন এবং যশোর, মাগুরা ও নড়াইল জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই দায়িত্ব বণ্টনের অন্যতম লক্ষ্য।