
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় মন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও সংসদ সদস্যদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বিশেষভাবে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ভেতরে কোনো ধরনের বিভেদ বা কোন্দল তৈরি না করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্য ধরে রাখার নির্দেশ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করা যাবে না।
নিজেদের পছন্দের প্রার্থী কিংবা নতুন ও তরুণদের সামনে আনার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও জোর দেন তিনি। এতে তৃণমূলে যেন ক্ষোভ, অসন্তোষ বা বিভেদের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে এমপিদের উপস্থিতির নির্দেশ
সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী দলটির সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রচার, অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। এসব প্রচারের যথাযথ জবাব দিতে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংকটের বিষয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর তাগিদ
সভায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিতে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সংকট নিয়ে মন্ত্রীরা যেসব তথ্য ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেগুলোর সঠিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এসব বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণা যাতে তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।
শিগগিরই নতুন সার ডিলার নিয়োগ
সভায় দেশের সার সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, সংকট মোকাবিলায় আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন।
সার সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে সরকার নজর রাখছে বলেও সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি সারসংক্রান্ত বিষয়ে কেউ যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অপপ্রচার চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারের বিভিন্ন সংকট ও কার্যক্রম নিয়ে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপরই সভায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।