
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
বর্তমান সরকারের সময়ে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে—সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া এই তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্টের প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুমিন ফারহানা সংসদে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ঘটনাকে বর্তমান সরকারের সময়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে দাবিটির উপস্থাপনায় বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কী দাবি করেছিলেন রুমিন ফারহানা?
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে এই দাবির তথ্যসূত্র যাচাই করে ভিন্ন চিত্র পেয়েছে বাংলাফ্যাক্ট।
ফ্যাক্টচেকে যা পাওয়া গেছে
বাংলাফ্যাক্টের যাচাই অনুযায়ী, ৬২ হাজার মানুষের চাকরি হারানো এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার যে তথ্যটি সামনে এসেছে, সেটি বর্তমান সরকারের সময়ের নয়। এসব ঘটনা মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের।
এ ছাড়া কারখানা বন্ধের সংখ্যাতেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা ছিল ৯৫টি, ৯ শতাধিক নয়।
এ কারণে ‘বর্তমান সরকারের সময়ে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে’—এমন উপস্থাপনাকে সঠিক নয় বলে চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ৬২ হাজার লোকের চাকরি হারানো এবং ৯ শতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য বর্তমান সরকারের সময়ের—এ দাবি সঠিক নয়।
ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা
বাংলাফ্যাক্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে।
দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার কাজ করছে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান।
বাংলাফ্যাক্ট কী?
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ‘বাংলাফ্যাক্ট’ একটি ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস টিম। বিভিন্ন সময়ে প্রচারিত ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সংবাদসংক্রান্ত গবেষণাও করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাফ্যাক্টের এই যাচাইয়ের ফলে রুমিন ফারহানার সংসদে দেওয়া বক্তব্যের তথ্য ও সময়কাল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চাকরি হারানো এবং কারখানা বন্ধের পরিসংখ্যান কোন সময়ের ঘটনা—সেটিই দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।