
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো তার।
নতুন দায়িত্বে আইরিন খান এমন এক সময়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, যখন আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার, শরণার্থী সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব ক্ষেত্রে তার রয়েছে কয়েক দশকের সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা।
জাতিসংঘে দায়িত্ব নেওয়ার আগে আইরিন খান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। সংস্থাটির ইতিহাসে তিনি ছিলেন প্রথম নারী মহাসচিব।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থা (আইডিএলও)-এর মহাপরিচালক হিসেবেও ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার কর্মজীবনের বড় একটি অধ্যায় কেটেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরে। সেখানে প্রায় ২১ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন আইরিন খান।
মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি লাভ করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সিডনি পিস প্রাইজ’। পাশাপাশি লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। দারিদ্র্য ও মানবাধিকারের সম্পর্ক নিয়ে তার লেখা The Unheard Truth: Poverty and Human Rights আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
আইরিন খানের নতুন দায়িত্বকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিষয়ে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।