
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। নির্বাচনে বিজয়ের পর ঢাকায় ফিরতেই তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের বিভিন্ন ঘটনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের স্মৃতি তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের একজন ছিলেন তিনি। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ঢাকায় ফেরার পরপরই এ বি এম সাত্তার তাকে ফোন করেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্যই ফোন করা হয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া তখন তাকে জিয়াউর রহমানের পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন। জিয়াউর রহমানের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল বলেও জানান তিনি।
জিয়ার সঙ্গে সেই দিনগুলোর স্মৃতি
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করার সময়কার বিভিন্ন স্মৃতিও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য, সে সময় জিয়াউর রহমানের জীবন ছিল অনেকটাই সাদামাটা। তৎকালীন সরকারের সন্দেহের কারণে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল খুব একটা আসত না। অনেক কাজ অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হতো।
ফলে অফিসে বসে মাঝে মাঝে বই বা ম্যাগাজিন পড়তেন জিয়াউর রহমান। তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, মাসে এক-দুবার বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের সভায় যোগ দিতে যেতেন তারা। জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত সেনাবাহিনীর জিপ তিনি নিজেই চালাতেন। দীর্ঘ যাত্রাপথে দুজনের মধ্যে যুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো।
খালেদা জিয়ার মির্জাপুর যাওয়ার ইচ্ছা
সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জাপুর যাওয়ার একটি ঘটনাও স্মরণ করেন স্পিকার। একদিন জিয়াউর রহমানের বাসায় গেলে খালেদা জিয়া তাকে বলেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও তিনি দীর্ঘ সময় ঘরেই থাকেন। তাই তাকেও কোথাও নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
এরপর হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে মির্জাপুর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, মধুপুরের বনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।
পরে বিষয়টি জিয়াউর রহমানকে জানিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে জিয়াউর রহমান কিছুক্ষণ চুপ থেকে সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
বাসায় ফিরে বিষয়টি খালেদা জিয়াকে জানালে তিনি হতাশ হয়েছিলেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মির্জাপুর যাওয়া আর হয়ে ওঠেনি।
ভাগ্যে থাকলে একদিন পাওয়া যায়
রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার পরবর্তী উত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার মতে, পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার জন্য বিশ্বের দরজা খুলে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, ভাগ্যে থাকলে এবং যোগ্যতা থাকলে জীবনে একসময় না একসময় কাঙ্ক্ষিত অবস্থান পাওয়া যায়।