
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
জনগণের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘রেইজিং হ্যান্ডস অ্যান্ড ভয়েসেস- ফস্টারিং এজেন্সি অ্যান্ড ওনারশিপ থ্রু ডেলিবারেটিভ ডেমোক্র্যাসি’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের গণতন্ত্রকামী জনগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য। শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যেই গণতান্ত্রিক অধিকার সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করতে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, জনগণের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু এবং মানুষের বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। বিএনপি সরকারে কিংবা বিরোধী দলে থাকা—উভয় অবস্থান থেকেই গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের বাণীর শেষাংশে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।