
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু রয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উপযোগী মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। এ বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শুধু সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য নয়; তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন অনেক পরিবারের অভিভাবক সন্তানকে দেখাশোনা করতে গিয়ে নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন না। এসব পরিবারের পিতা-মাতারা যাতে ঘরে বসে কিংবা তাঁদের উপযোগী পরিবেশে আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানানো হলে মন্ত্রী দাবিটির প্রতি সমর্থন জানান। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান (দুলাল)।
সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের (এনডিডি) মাধ্যমে আগে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বর্তমানে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ৯২ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বিশেষ অনুদানের চেক তুলে দেন।