
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ আকস্মিক দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দিতে এক লাখ প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে ওয়ার্ড, জোন ও থানা-ভিত্তিক কাঠামোয় এসব স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, টিডিপি সদস্যদের সাধারণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধার অভিযান এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষিত সদস্যদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় দ্রুত শনাক্ত ও নির্দিষ্ট এলাকায় মোতায়েনের ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে।
দুর্যোগের সময় এসব স্বেচ্ছাসেবী স্থানীয় পর্যায়ে প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করবেন। তারা উদ্ধারকাজে সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বৈঠকে আনসার-ভিডিপির দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জনবল মোতায়েন, প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে বড় ধরনের দুর্যোগের শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
জাতীয় সংকট ও মানবিক দুর্যোগের সময় দুই বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়েও বৈঠকে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, তথ্য বিনিময় ও যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।