
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এ উপলক্ষে নৌপথের টার্মিনাল ও ফেরিঘাটে নজরদারি জোরদার, অতিরিক্ত ফেরি-লঞ্চ প্রস্তুত রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পরিচালনা করা হবে ৩৫টি মোবাইল কোর্ট।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে মানুষ যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রামের বাড়ি ও পর্যটনকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রাপথে ভোগান্তি কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি জানান, এবার পূজার ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় যাত্রী চলাচল বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূজা উদযাপনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি ফেরার পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষও পরিবার নিয়ে গ্রাম কিংবা পর্যটনকেন্দ্রে যেতে পারেন। এ কারণে ঈদের ছুটির আদলে পরিবহন খাতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ফেরিঘাটে বাড়তি প্রস্তুতি, থাকবে অতিরিক্ত নৌযান
যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে সদরঘাটসহ দেশের বিভিন্ন নৌবন্দর ও টার্মিনাল ছুটি শুরুর আগেই প্রস্তুত রাখা হবে। পাটুরিয়াসহ দেশের ১২ থেকে ১৩টি চালু ফেরিঘাটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লে ব্যবহার করার জন্য অতিরিক্ত ফেরি ও লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, ছুটির সময়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নৌবন্দর ও ফেরিঘাটে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে।
যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ সভা হয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।
যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ৩৫ মোবাইল কোর্ট
ছুটিতে যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘাট ও সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো জটিলতা দ্রুত মোকাবিলায় ২৫ থেকে ৩০ জন অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৫টি মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বাস প্রবেশ ঠেকাতে স্থায়ী ব্যারিকেডও নির্মাণ করা হয়েছে। ফেরিতে ওঠানামার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস থেকে যাত্রী নামানো এবং ফেরিতে বাস ওঠানো-নামানোর নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ায় নিরাপত্তায় বিশেষ নজর
ঋতু পরিবর্তনের সময় হঠাৎ ঝড় কিংবা বৈরী আবহাওয়া তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে রাজীব আহসান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নৌযান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক যানজটমুক্ত রাখতেও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ পথে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা গেলে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলগামী সড়কপথের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সদরঘাটের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা সমাধান করে আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার কাজ চলছে।
সড়কের চাপ কমাতে নৌপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা
নৌপথের পরিবহন সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজীব আহসান বলেন, বড় লঞ্চে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। ঈদের সময় প্রতিদিন শতাধিক বড় লঞ্চ চলাচল করলেও স্বাভাবিক ছুটিতে এ সংখ্যা কম থাকে। নৌপথের সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে সড়কপথে যাত্রীদের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
সরকারের নেওয়া সমন্বিত প্রস্তুতির ফলে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।