
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
সমাজের অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত ও পিতামাতাহীন শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো- অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত ও পিতামাতাহীন শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দিনশেষে তাদের সমাজে পুনর্বাসন করা।’
তিনি জানান, শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখতে হাটহাজারীর ফরহাদাবাদে অবস্থিত কেন্দ্রটি পরিদর্শনে এসেছেন তিনি।
পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত শিশুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে মনোসামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ বা সাইকোসোশ্যাল মোটিভেশনের আওতায় আনতে হবে। এ প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের টেকসই পুনর্বাসন কঠিন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। পরে হলরুমে শিশুদের আঁকা দেয়ালিকার ১২তম সংখ্যা ‘আলোকবর্তিকা’ উন্মোচন করেন। এ সময় বাংলাদেশের পতাকার রঙের পোশাক পরে শিশুরা ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি-বাংলাদেশের নাম’সহ কয়েকটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে।
কেন্দ্রটির উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার জানান, এখানে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পিতামাতাহীন ও পরিত্যক্ত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশুসহ ১৬ ধরনের শিশুকে সেবা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শিশুদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, জীবনমান উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সেবার মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ২০১২ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ২৪টি শিশু সেবা পেয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৮টি শিশুকে বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং ৫০০ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে ১০০ জন বালক ও ১০৪ জন বালিকাসহ মোট ২০৪ জন শিশু রয়েছে। তাদের বয়স ৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এসব শিশুকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।