
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) পিংক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এ সার্ভিস পরিচালনার জন্য দক্ষ নারী চালক তৈরি করতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (আইসিডব্লিউএস ও প্রশিক্ষণ) প্রকৌশলী ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত নারী প্রার্থীদের এক থেকে চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার নারী চালক পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিসের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইভি পিংক বাস চালু করা হবে।
ফাতেমা বেগম বলেন, পিংক বাস সার্ভিস চালুর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ সেবা পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়; বরং মহানগরীসহ সারা দেশে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অনেক রক্ষণশীল পরিবারের সদস্যরাও তাদের পরিবারের নারীদের গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করছেন। এর ফলে নারীরা দক্ষ চালক হিসেবে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
বিআরটিসির এ উদ্যোগের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে তরুণদের দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিআরটিসি।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি) আওতায় নতুন চালকদের বিনামূল্যে হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের আওতায় অনেক নারী হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের অনেকে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও পেয়েছেন।
বিআরটিসির গাজীপুর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউজ্জামান বাসসকে জানান, হালকা মোটরযানের বৈধ লাইসেন্সধারী নারীদের ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দিতে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীরা ইভি পিংক বাস পরিচালনার সুযোগ পেতে পারেন।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে রোড পারফরম্যান্স টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিআরটিসির প্রচলিত প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না।
ভবিষ্যতে বিআরটিসির স্থায়ী চালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব প্রার্থী অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের সময়সূচি
বিআরটিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশের নারী নাগরিক হতে হবে। আবেদনকারীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট হতে হবে। অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত শিথিলযোগ্য।
এ ছাড়া আবেদনকারীদের কমপক্ষে এক বছর মেয়াদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে গাজীপুরের বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় সঙ্গে রাখতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি।
প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ১৫ নভেম্বর বিকেলে বিআরটিসির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য মহিলা হোস্টেলে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে।
বিআরটিসির আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে, অন্যদিকে পেশাদার চালক হিসেবে নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।