
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
দেশের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির প্রতি সরকার ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে। এ জন্য আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে চলমান আন্দোলনে কিছু ব্যক্তির সহিংস কর্মকাণ্ডকে শ্রমিকদের স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও দলটির কাছে থাকা অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে। তবে এমন তৎপরতার সঙ্গে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ডিসেম্বরের পরও বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার সতর্ক রয়েছে। শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী সরকার এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান সরকার বিরোধীপক্ষকে দায়ী করার ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অবস্থান নিচ্ছে।
পুলিশের বলপ্রয়োগের বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তবে কোনো পরিস্থিতিতে এমন অস্ত্র ব্যবহার প্রয়োজনীয় ও আইনসম্মত ছিল কি না, তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।