
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নওগাঁয় চিত্রাঙ্কণ, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার সময় নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে দুপুরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই জাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ এস এম রায়হান আলম, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, সাবেক সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাঃ হাছানাত আলী বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব নেবার পর থেকে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক বাধা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৬ বিঘা আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছি। আগামী শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কুদরত-ই জাহান বলেন, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেক সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু সবার আগে শিক্ষা খাতে সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। উন্নত বিশবগুলোতে দেখা যায়, সেসব দেশে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা অর্জন করে। অথচ আমাদের দেশে এখনও ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি লেখাপড়া করে। তারপরেও তাদের সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত কম। আবার শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ দেওয়া তা অতি নগন্য। মোট বাজেটের মাত্র ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের জন্য দোয়া করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রায় এক শতাধিক ক্ষুদে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের চিত্র তাদের হাতের নিপুন মাধুর্য দিয়ে ফুটে তোলেন।