
শাহজাদপুর থেকে নাজমুল হকঃ
এক সময় শাহজাদপুর উপজেলার (সিরাজগঞ্জ) ভাটপাড়া ছিল তাঁত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এক গ্রাম । সূক্ষ্ম তুলা আর নকশার কারুকার্যে বিখ্যাত এই গ্রামের তাঁতিদের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা ছড়িয়ে পড়ত দেশের আনাচে-কানাচে, শহর-বন্দরে। তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকতো সকাল বিকেল। তখন ভাটপাড়ার প্রায় প্রতিটি ঘরেই ছিল তাঁত, আর প্রতিটি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করতো এই তাঁত শিল্পের উপর।
কিন্তু সময়ের সাথে ভাটপাড়ার গর্ব যমুনা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে । নদী ভাঙ্গনে একে একে বিলীন হয়ে গেছে । গ্রাম, ঘরবাড়ি, তাঁতের ঘর নদীর স্রোতে কেড়ে নিয়েছে শত বছরের ঐতিহ্য । অনেক তাঁত মালিক বাধ্য হয়ে পাড়ি দিয়েছেন অন্যত্র-- কে কোথায়? সে হিসেব নেই।
কৈজুরী ইউনিয়নের অন্তর্গত আজকের ভাটপাড়া কেবল স্মৃতির নাম। নদীর পাড়ে আছে কিছু ভাঙ্গাচোড়া ঘর, কিছু জীর্ণ তাঁত যন্ত্র, আর অর্থহীন দুর্বল কিছু মানুষ । যাদের এক সময় দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হতো রঙিন কাপড়, আজ তারা "দিন আনে, দিন খায়।" কেউবা ভাঙ্গা তাঁতের পাশে বসে নীরবে স্বরন করেন হারানো দিনগুলোকে। তাঁতের শব্দ এখন নীরব, কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরই শোনা যায় এক গভীর হাহাকার--একটি গ্রামের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের আর্তনাদ।
কৈজুরী ইউনিয়নের মহিলা সদস্য সনেকা খাতুন। তিনি বলেন, ভাটপাড়া বিলুপ্তি একটি গ্রামের ক্ষতি নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ।
এলাকার বিশিষ্ট সেবক রবিউল ইসলাম রঞ্জিত । তিনি বলেন, এখনই নদী ভাঙ্গনের স্থায়ী পদক্ষেপ ও তাঁত শিল্প পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার । তা না হলে আরও ভাটপাড়া হারিয়ে যাবে সময়ের স্রোতে ।