
দেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে হারানোর ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল (১৩ ফেব্রুয়ারি)। ২০১২ সালের এই দিনে বাংলা অভিনয়জগতের এই তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র— সব মাধ্যমে সমান দাপটে অভিনয় করেছেন হুমায়ুন ফরীদি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তার অভিনয় নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়েছেন কোটি দর্শক। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জীবনের নানা রঙ তুলে ধরেছেন, অথচ ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা।
১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবনের সূচনা হয়। টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন ‘নিখোঁজ সংবাদ’ নাটকে। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘শীতের পাখি’, ‘দুই ভাই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’সহ অসংখ্য নাটক। বিশেষ করে ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকে কানকাটা রমজান চরিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে অমলিন।
মঞ্চনাটকেও ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। কৈশোরেই মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’ ও ‘কেরামত মঙ্গল’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে। পরে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সিনেমায় শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’ ও ‘পালাবি কোথায়’সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি খল চরিত্রে অভিনয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেন।
২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মাননা লাভ করেন এই গুণী শিল্পী। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে নানা উত্থান-পতন থাকলেও শিল্পী সত্তাতেই তিনি আজও দর্শকদের হৃদয়ে অম্লান। তার অনবদ্য অভিনয় ও শক্তিশালী উপস্থিতি বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।