
হক আমীন:
ভোরের কোমল আলো যখন মাটির পথ ছুঁয়ে ধীরে ধীরে গ্রামবাংলার বুকে, তখনই এক তরুণ দাড়িয়ে আছে দৃপ্ত ভঙ্গিতে। তার হাতে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা! আমাদের প্রানের প্রতীক, আমাদের স্বাধীনতার চিহ্ন।
পতাকার লাল বৃত্ত যেন সূর্যের মতো উদিত হয়ে স্বরন করিয়ে দেয় রক্তসনাত ইতিহাস, সবুজের বিস্তার, যেন এ দেশের শ্যামল প্রকৃতি আর অমলিন আশা।
আজ স্বাধীনতা দিবস । এ দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মত্যাগ, বেদনা আর বিজয়ের মহাকাব্য । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত । সেই রক্তের রঙই আজ পতাকার লাল বৃত্তে অমর হয়ে আছে।
ছবির এ যুবক যেন সেই ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি । তার চোখে ভেসে ওঠে গর্ব, মুখে অদম্য অটুট বাসনা । হয়তো তিনি সেইসব মায়ের কথা ভাবছেন, যারা সন্তান হারিয়েও দেশকে স্বাধীন দেখতে চেয়েছেন। হয়তো তার মনে পড়ে সেই বীরাঙ্গনাদের কথা, যাদের ত্যাগে গড়ে উঠেছে আমাদের স্বাধীন ভূখণ্ড । এ পতাকা শুধু কাপড়ের টুকরো নয়- এটি এক ইতিহাস, এক সংগ্রাম, এক চিরন্তন ভালোবাসা ।
গ্রামের সাধারণ পরিবেশে দাড়িয়ে থাকা এ তরুণ যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় দেশপ্রেম শহরের কোলাহলে সীমাবদ্ধ নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রতিটি ধূলিকনায়, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে লালিত। তার হাতে পতাকা মানে শুধু উদযাপন নয়, এটি দায়িত্বের প্রতীক । স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। তার উন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করি।
স্বাধীনতা দিবসের এ প্রভাতে, লাল- সবুজের পতাকা আবারও আমাদের আহ্বান জানায় , আমরা যেন ভুলে না যাই আমাদের ইতিহাস, আমাদের শিকড়। এ পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কারন, এ পতাকায় জড়িয়ে আছে আমাদের পরিচয়।
আজ এ দেশপ্রেমিক যুবকের হাতে পতাকা উড়তে থাকা পতাকা যেন নতুন প্রজন্মকে বলে- "ভালোবাসো তোমার দেশকে, সম্মান কর তোমার পতাকাকে, আর মনে রেখ এ স্বাধীনতা কোন উপহার নয়, এটি অর্জন করা এক মহান বিজয়।"