
সর্দার রঞ্জিত, শাহজাদপুর থেকে:
প্রেমে মজিলে মন, কেবা হাড়ি, কেবা ডোম-এই চিরন্তন প্রবাদ যেন আবার বাস্তবে রূপ নিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। ধর্ম, জাত-পাত, সামাজিক অবস্থান-সব বাধা পেড়িয়ে গড়ে ওঠা এক প্রেমের সম্পর্ক, যা শুরুতে আলোড়ন তুললেও শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তার গল্পে।
লক্ষন সূত্রধর হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক যুবক, আর চায়না খাতুন, মুসলিম পরিবারের এক গৃহবধূ-দু'জনের জীবনই ছিল আলাদা পথে চলা। দু'জনেই আগে বিবাহিত, তাদের ঘর সংসার এবং সন্তান রয়েছে। কিন্তু হৃদয়ের টানে সেই গন্ডি ভেঙ্গে তৈরি হয় নতুন সম্পর্ক। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়।
গ্রামের মানুষের চোখে প্রথমে বিষয়টি ছিল গোপন, পরে প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নানা আলোচনা- সমালোচনা। সামাজিক রীতি নীতকে অগ্রাহ্য করে চায়না খাতুন প্রেমের টানে ধর্মান্তরিত হন গত ৯ মার্চ। নতুন পরিচয়ে বৃষ্টি সূত্রধর নাম নিয়ে লক্ষণের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
এ বিয়ে ঘিরে ভাটপাড়া ও আশপাশে সৃষ্টি হয় তুমুল চাঞ্চল্য। কেউ দেখছেন ভালোবাসার জয় হিসেবে, কেউ দেখছেন সামাজিক মূল্যবোধের আবক্ষয় হিসেবে।
তবে গল্পের মোড় ঘুরে যায় দ্রুতই। মাত্র বিশ দিনের মাথায় নিখোঁজ বনে যান লক্ষন সূত্রধর। ফলে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখা বৃষ্টি সূত্রধর পড়েছেন গভীর অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলছেন সামাজিক চাপ সহ্য করতে না পেরে লক্ষন চম্পট দিয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন অজানা কারন।
এ ঘটনার মধ্যে আবারও সামনে এসেছে একটি বাস্তবতা-প্রেম কখনও কখনও সামাজিক বাঁধা ভেঙ্গে নতুন পথ দেখালেও সেই পথ সবসময় জীবনে নিয়ে আসে জটিলতা, অনিশ্চয়তা আর অনুতাপের ছায়া।
ভাটপাড়ার এ ঘটনা তাই শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং এটি পরিবার, সমাজ আর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জটিল এক প্রতিচ্ছবি। এখানে যেমন আছে ভালোবাসার সাহস, তেমনি আছে বাস্তবতার কঠিন হিসাব।