
নাজমুল হক:
প্রখর রোদে ঝলমল করছে চৈত্রের দুপুর। যতদূর চোখ যায়, কেবল সোনালি ধানের খড়ের বিস্তার। সেই মাঠের মাঝেই একটু ফাঁকা জায়গায় দুই কৃষিশ্রমিক। দিনের কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে চলছে তাঁদের মধ্যাহ্নভোজন- সাদামাঠা ভাত আর সামান্য তরকারি। কিন্তু এই সরল খাবারেই যেন লুকিয়ে আছে তৃপ্তির এক অনন্য স্বাদ।
কৃষক দুই জনের একজন মাটির ওপর পা গুটিয়ে বসে ধীরে খাচ্ছেন।
অন্যজনও পাশে বসে নিজের থালায় হাত চালাচ্ছেন। পাশে রাখা কলস, একটি গ্লাস আর এলুমোনিয়ামের বাটি-সবমিলিয়ে গ্রামবাংলার চিরচেনা এক দৃশ্য। নেই কোন চাকচিক্য, নেই বাহুল্য, আছে শুধু শ্রম আর জীবনে টিকে থাকার লড়াই।
এই মানুষগুলোই আমাদের কৃষির মূল শক্তি। তাঁদের ঘামেই জন্ম নেয় সোনালি ধান, পাট, গম, সরিষা, ভুট্টা-যা পৌছে যায় শহরের প্রতিটি ঘরে। অথচ তাঁদের জীবনে নেই তেমন স্বাচ্ছন্দ্য। খোলা আকাশের নিচে, মাঠের মাটিতেই বসে খেতে হয় তাঁদের প্রতিদিনের আহার। তবুও মুখে নেই কোন অভিযোগ, নেই ক্লান্তির প্রকাশ-আছে শুধু কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা।
গ্রামবাংলার এই চিত্র নতুন কিছু নয়, কিন্তু প্রতিবারই তা মনে করিয়ে দেয় এক গভীর বাস্তবতা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় শহর বদলে গেলেও, দেশের মাটি এখনও টিকে আছে এই সাধারণ মানুষের ওপর ভর করে। তাঁদের শ্রম, তাঁদের ত্যাগ-সবমিলিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা।
এই দৃশ্য তাই শুধু দুই শ্রমিকের খাবার খাওয়ার মুহূর্ত নয়, এটি এক জীবন্ত প্রতীক-কঠোর পরিশ্রম, আত্মনির্ভরতা আর জীবনের সহজ-সরল সৌন্দর্যের। সোনালি মাঠের বুকে বসে তাঁরা যেন বলে দিচ্ছেন- "জীবন কঠিন, তবুও থেমে নেই, কাজই আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি।"