
হক আমীন:
বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ভাষা নানা রকম। কোথাও মিছিল- সমাবেশ, কোথাও শ্লোগান, আবার কোথাও অভিনয়ের মাধ্যমে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে থাকে। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় হয়ে গেল এক ভিন্ন রকম প্রতিবাদ- বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর প্রতিকৃতিতে যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে জুতো নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই প্রতিযোগিতা ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ ও আলোড়ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে প্রতিযোগিতার ভিডিও, আর তাতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের উচছাস যেন এক নতুন ধরনের বার্তা বহন করছে। কেউ বলছেন, এটি প্রতিবাদের অভিনব রূপ, কেউ দেখছেন, এটি বিনোদনের খোরাক হিসেবে।
এই প্রতিযোগিতার নিয়মও বেশ চমকপ্রদ। নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে অংশগ্রহনকারীরা একটি স্থির লক্ষ্যের দিকে জুতো নিক্ষেপ করেন। লক্ষ্যটি হল নেতানিয়াহুর বড় প্রতিকৃতি। যে যত নিখুঁতভাবে প্রতিকৃতিতে জুতো নিক্ষেপ করতে পারবে, তার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। ফলে প্রতিযোগিতাটি হয়ে উঠেছে একদিকে দক্ষতার পরীক্ষা, অন্যদিকে প্রতিবাদের বহি:প্রকাশ।
আলোচকেরা বলছেন, জুতো নিক্ষেপ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। অতীতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশে এরকম প্রতীকী প্রতিবাদের নজির আছে। তবে সেটিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় রূপ দেওয়া সত্যিই নজিরবিহীন।
এ আয়োজন ঘিরে নানা মতও উঠে এসেছে। একপক্ষ মনে করছে, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার একটি দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এমন আয়োজন সামাজিক শালীনতার প্রশ্ন তুলতে পারে।
তবুও অস্বীকার করার উপায় নেই-এ প্রতিযোগিতা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। রাজনীতি, প্রতিবাদ এবং বিনোদনের এক অদ্ভুত মিশেলে তৈরি এ আয়োজন যেন বর্তমান সময়ের একটি প্রতিচ্ছবি- যেখানে মানুষ নতুন নতুন উপায়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে।
সময়ের সাথে সাথে প্রতিবাদের ভাষা যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে তার উপস্থাপনাও। দক্ষিণ কোরিয়ার এ জুতো নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা হয়তো সেই পরিবর্তনের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ, যা বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে-প্রতিবাদ কি শুধু শ্লোগানে সীমাবদ্ধ, নাকি তা হয়ে উঠতে পারে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও।