
হক আমীন, ঢাকা:
রাজধানী ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠে বৈশাখী ১৪৩৩ উত্সবের আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু, কিশোর-কিশোরীসহ নানান বয়সী মানুষ। রঙিন পোষাক, মেলা, গান আর আনন্দঘন পরিবেশের মাঝে হঠাৎ সবার দৃষ্টি কাড়ল এক লম্বা যুবক। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন, দৈত্যাকৃতির কোন মানুষ হেঁটে বেড়াচ্ছে মাঠজুড়ে।
এ লম্বা মানুষের নাম সোহেল (২৫)।
বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায়। বাস্তবে তার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। তবে বুদ্ধি আর সৃজনশীলতায় তিনি হয়ে উঠেছেন সকলের নজরের কেনদ্রবিন্দু। রাবার আর প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে লম্বা মানুষের রূপ দিয়েছেন।
বৈশাখী উত্সবে এমন অভিনব সাজের মূল উদ্দেশ্য- শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মনে আনন্দ দেওয়া।
সোহেল মাঠজুড়ে ঘুরে বেড়ান, শিশু, কিশোরদের সাথে হাত মেলান, কথা বলেন, হাসি ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখেন বর্ষ বরনের পরিবেশ। তার এ ব্যতিক্রমী উপস্থিতিতে শিশুদের মাঝে তৈরি হয় অন্যরকম এক উচছাস। কেউ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, কেউ আবার সাহস করে তার সঙ্গে ছবি তোলে। শিশুদের মুখে ফুটে ওঠা হাসিই যেন, সোহেলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, "শিশুদের মুখে হাসি আর আনন্দই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।"
পহেলা বৈশাখের এ উৎসবে সোহেলের মতো মানুষের উপস্থিতি শুধু বিনোদনই নয়, বরং গ্রামীন কৃষ্টি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রকাশ। আধুনিকতার ভিড়ে এমন বিরল অথচ হৃদয় ছোঁয়া আয়োজন আমাদের সংস্কৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত, প্রাণবন্ত।
বৈশাখের আনন্দঘন দিনে, লম্বা মানুষের ছদ্মবেশে সোহেল যেন, মনে করিয়ে দিলেন-আনন্দ দেওয়ার জন্য বড় কিছু নয়, প্রয়োজন শুধু একটি সৃজনশীল মন আর মানুষের প্রতি একটুকরো ভালোবাসা।