
হক আমীন
গ্রামবাংলার নিস্তব্ধ বিকেল, সবুজের মাঝে হালকা বাতাস-এ পরিবেশে কোথাও যদি ভেসে আসে বাঁশির সুর, তখন মনটা অজান্তেই অন্য এক জগতে হারিয়ে যায়। বাঁশি আমাদের চিরচেনা এক সহজ অথচ মোহনীয় বাদ্যযন্ত্র, যার সুর যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
বাঁশি মূলত বাঁশ দিয়ে তৈরি এক সরল বাদ্যযন্ত্র। এর গায়ে কয়েকটি ছিদ্র থাকে, যেগুলো আঙুল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে সুর তোলা হয়। দেখতে সহজ হলেও, বাঁশি বাজানো এক ধরনের শিল্প-যার জন্য প্রয়োজন মনোযোগ, ওস্তাদ, অনুশীলন আর অনুভূতির গভীরতা।
গ্রাম বাংলা কিংবা শহর সংস্কৃতিতে বাঁশির গুরুত্ব অপরিসীম। লোকসঙ্গীত, ভাটিয়ালি, বাউল কিংবা আধুনিক গান-সব আসরেই বাঁশির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনেক জনপ্রিয় গানেই বাঁশির সুর এক বিশেষ আবহ তৈরি করে। গ্রামীন জীবনে রাখালের হাতে বাঁশি যেন এক চিরায়ত চিত্র-গরু চরানোর ফাঁকে ফাঁকে সে সুর তোলে, আর প্রকৃতি যেন সেই সুরের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
বাঁশির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা আবেগ ও গল্প। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা বিষাদ-সব অনুভূতিই যেন বাঁশির সুরে প্রকাশ পায়। সাহিত্য ও পুরানেও বাঁশির উললেখ পাওয়া যায়। শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির সুরে গোপীরা মোহিত হতেন-এ গল্প অনেক পুরোনো। কম বেশী সকলের জানা।
বর্তমান প্রযুক্তির উন্নয়নে অনেক আধুনিক বাদ্যযন্ত্র এলেও বাঁশির আবেদন একটুও কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের অনেকেই আবার বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঁশির সুর নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী বাঁশি সম্পর্কে বলেন, "বাঁশির সুর এমন এক মায়া, যা মানুষের মনকে সহজেই স্পর্শ করে।"
সময় বদলালেও, মানুষের ভালোবাসা আর অনুভূতির সঙ্গে বাঁশির মেলবন্ধন চিরকাল অটুট থাকবে। কেননা, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও হৃদয়ের এক গভীর অনুভূতির প্রতীক।